A PHP Error was encountered

Severity: Notice

Message: Only variable references should be returned by reference

Filename: core/Common.php

Line Number: 257

A PHP Error was encountered

Severity: Warning

Message: Cannot modify header information - headers already sent by (output started at /home/webheart/public_html/sundayline/system/core/Exceptions.php:185)

Filename: libraries/Session.php

Line Number: 675

হাজারো মানুষের করতালিতে বিজয়ের সেই ক্ষণ উদ্যাপন
সংবাদ-শিরোনাম:
হাজারো মানুষের করতালিতে বিজয়ের সেই ক্ষণ উদ্যাপন

হুড খোলা জিপে সামনের সারিতে ভারতীয় সেনাবাহিনীর পূর্বাঞ্চলীয় কমান্ডের অধিনায়ক লে. জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরা ও পরাজিত পাকিস্তানি বাহিনীর লে. জেনারেল আমির আবদুল্লাহ খান নিয়াজি। পেছনে লে. জেনারেল জে এফ আর জ্যাকব, এ কে খন্দকার, সগত সিংসহ যৌথ বাহিনীর সদস্যরা। ধীরে ধীরে জিপটি পৌঁছাল রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান)। কয়েক মিনিটের মধ্যে সব আনুষ্ঠানিকতা শেষ। আত্মসমর্পণ দলিলে সই করলেন নিয়াজি। বিশ্বের মানচিত্রে জন্ম হলো বাংলাদেশ নামের একটি স্বাধীন দেশের।
দৃশ্যটি ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিকেল চারটা ২০ মিনিটের। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর আত্মসমর্পণের ওই দৃশ্য প্রতীকীভাবে ফুটিয়ে তোলা হলো গতকাল রোববার, মহান বিজয়ের ৪১তম বার্ষিকীতে। আবহ, পোশাক-ব্যাজ, স্থান ও পরিবেশ—সবই ছিল সেদিনের প্রায় কাছাকাছি। তবে পাত্ররা ছিলেন ভিন্ন। অরোরা, নিয়াজি ও এ কে খন্দকারের চরিত্রে অভিনয় করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগের শিক্ষার্থীরা। সমবেত হাজারো মানুষ মুগ্ধ হয়ে সেই দৃশ্য দেখল এবং করতালির মাধ্যমে মুহূর্তটি উদ্যাপন করল।
আত্মসমর্পণের প্রতীকী এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে সেক্টর কমান্ডারস ফোরাম-মুক্তিযুদ্ধ ’৭১। নাট্যকলা বিভাগের শিক্ষার্থীরা যখন নিয়াজির আত্মসমর্পণের সময়টি ফুটিয়ে তুলছিলেন, তখন সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে নির্মিত বিজয় মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন মুক্তিবাহিনীর উপপ্রধান ও পরিকল্পনামন্ত্রী এ কে খন্দকার, সেক্টর কমান্ডারস ফোরামের নেতা কে এম সফিউল্লাহ, আবু ওসমান চৌধুরী, হারুন-অর-রশিদ, বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা সারওয়ার আলী, ম. হামিদ, আবুল কালাম আজাদ পাটোয়ারী প্রমুখ। তাঁরা নতুন প্রজন্মের হাতে জাতীয় পতাকা হস্তান্তর করেন এবং তা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে পৌঁছে দেওয়ার আহ্বান জানান। এ সময় বেজে ওঠে ‘মুক্তির আলোয় উড়ছে’ গানটি। গানের সঙ্গে সমবেত জনতাও গলা মেলায়।
প্রতীকী আয়োজনের আগে এ কে খন্দকার সমবেত জনতার উদ্দেশে বলেন, ‘৪১ বছর আগে আমার যে অভিজ্ঞতা হয়েছিল, আজ সেই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটতে যাচ্ছে। ওই দিন তেজগাঁও বিমানবন্দর থেকে এই উদ্যানে আসা এবং আত্মসমর্পণ দলিলে নিয়াজির সইয়ের পর আবার তেজগাঁও বিমানবন্দরে ফিরে যাওয়ার সময় মানুষের যে উল্লাস ও আনন্দ দেখেছিলাম, তা কোনো দিন ভোলার নয়। সেদিন রাস্তার পাশে হাজারো জনতা করতালি দিয়ে আমাদের স্বাগত জানিয়েছিল। তাদের চোখে-মুখে ছিল বিজয়ের আনন্দ।’ তিনি নিয়াজির আত্মসমর্পণের পূর্বাপর ঘটনা তুলে ধরেন।
বিজয় দিবসে গতকাল সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সব বয়সী ও সর্বস্তরের মানুষের ঢল নামে। অনেকে এসেছিলেন শিশু, বৃদ্ধ মা-বাবা ও স্বজনদের নিয়ে। অনেকে পরেছিল লাল-সবুজের পোশাক। অনেকের মাথা ও হাতে ছিল পতাকা বাঁধা। পতাকা আঁকা ছিল শিশুদের কপাল, মুখ ও হাতে।
প্রতীকী আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানটি হয় সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে নির্মিত বিজয় মঞ্চে। মঞ্চের সামনে, ডানে ও বাঁয়ে হাজারো মানুষ। এর মাঝখান দিয়ে ধীরে ধীরে মঞ্চের দিকে এগিয়ে যায় প্রতীকী অরোরা ও নিয়াজিকে বহনকারী গাড়ি। সমবেত জনতা এ সময় মুহুর্মুহু করতালি দেয়। অনেকে এই দৃশ্য ক্যামেরা ও মুঠোফোনে ধারণ করে।
এর আগে সেক্টর কমান্ডারস ফোরামের উদ্যোগে দুপুরের পর থেকেই চলে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। গান, নাচ ও অভিনয়ের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধ ও বিজয়ের দিনগুলো ফুটিয়ে তোলা হয়।
এ ছাড়া সেক্টর কমান্ডারস ফোরামের নেতারা সকাল সাড়ে আটটায় সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধে বীর শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানান।


সর্বশেষ সংবাদ সমুহ: